টাঙ্গাইলে কবুতর পালনে স্বাবলম্বী রাজীব, মাসে আয় ৫০ হাজার

টাঙ্গাইলে কবুতর পালনে স্বাবলম্বী হয়েছেন রাজীব। কবুতর পালন করে বর্তমানে তার মাসে আয় হয় ৫০ হাজার টাকা। তিনি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী গ্রামের বাসিন্দা। তার দেখাদেখি এখন অনেকেই কবুতর পালনে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তার কাছ থেকে কবুতর পালন বিষয়ক পরামর্শ নিচ্ছেন অনেকেই।

জানা যায়, এসএসসি পাস করার পর সংসারের অভাব অনটনের কারণে বেশিদূর লেখাপড়া করা হয়নি রাজিবের। নিজের অদম্য ইচ্ছা আর পরিবারের সহযোগিতায় মাত্র পাঁচ জোড়া কবুতর দিয়ে তিনি তার ব্যবসা শুরু করেছিলেন ৫ বছর আগে। আর এখন তার খামারে প্রায় ৩০০ জোড়া দেশি ও বিদেশি জাতের কবুতর রয়েছে।

কবুতর পালনকারী রাজীব বলেন, শুরুটা মাত্র ৫ জোড়া দিয়ে হলেও এখন তার প্রায় ৩০০ জোড়া কবুতর। দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে অনেকেই তার কাছে আসেন কবুতর পালন শিখতে ও কবুতর কিনতে। দেশি-বিদেশিসহ খামারে রয়েছে প্রায় ৫০ প্রজাতির ফেঞ্চি কবুতর। এর মধ্যে প্রমেনিয়াম পটার, বারলেস রেসার, ফ্রেন্স মুন্ডিয়ান, পাকিস্তানি ডেনিস, জার্মান ডেনিশ, কুবার্গলার্ক, মুর হেড, কালো বিউটি হুমা, ব্লু পটার, অ্যারাবিয়ান টাম্পিটার, বুখরা, বাশিরাজ কোকা, হল্যান্ড জেকোবিন আমেরিকান সু কিং, লাল বোম্বাই, সাদা বিউটি হুমা, ব্লু রেসার, স্টেচার, বারাম্বার টামপিটারসহ ভিন্ন ভিন্ন বহু প্রজাতির কবুতর রয়েছে তার খামারে।

তরুণ এই উদ্যোক্তার এখন মাসিক আয় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। এই টাকা দিয়েই তিনি বাবার সংসারে হাল ধরেছেন।

তিনি আরও জানান, যখন বেকারত্ব দেশের বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে তখন এই চ্যালেঞ্জিং কাজটি হাতে নিই। যেন বেকার তরুণরা এমন উদ্যোক্তা হয়ে স্বাবলম্বী হতে পারেন। করোনা মহামারিতে ব্যবসা অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত বলে জানান তিনি।

উপজেলার প্রাণিসম্পদ অফিসার আব্দুল মান্নান বলেন, করোনাকালীন সংকটে বেকারত্ব দূরীকরণে রাজীবের মতো উদ্যোগ নিয়ে অনেক যুবকরাই স্বাবলম্বী হতে পারেন। প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে আমরা তাকে সঠিক পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*